© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সাপ নিয়ে নাড়াচাড়া করবেন না, ছোবল দিয়ে শেষ করে দেবে: জামায়াত আমির

শেয়ার করুন:
সাপ নিয়ে নাড়াচাড়া করবেন না, ছোবল দিয়ে শেষ করে দেবে: জামায়াত আমির

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৪২ এএম | ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
আওয়ামী লীগে যারা ভালো মানুষ এবং দেশকে ভালোবাসেন, তারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী আপন ঠিকানা খুঁজে নেবেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে—এমন কল্পনা কেউ করবেন না, জুজুর ভয় আমাদের দেখাবেন না।

গতকাল বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিইবি) মিলনায়তনে ‘২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার তাণ্ডবে শহীদ পরিবার’-এর সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপিকে সতর্ক করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা (আওয়ামী লীগ) ১৫ বছর ধরে গুম, খুন ও নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের কেউ কেউ আশকারা দিচ্ছে। সাপ নিয়ে নাড়াচাড়া করবেন না, সেই সাপই ছোবল দিয়ে শেষ করে দেবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি ফ্যাসিস্টদের একটি ক্লাব। তারা যখনই ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই তারা বেপরোয়া হত্যা ও সন্ত্রাস চালিয়ে গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে। ৭২ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত জাতির ওপর সমানতালে সন্ত্রাস, লুটপাট, তাণ্ডব, চাঁদাবাজির অপকর্মগুলো তারা করেছে। রক্ষী বাহিনী দিয়ে ৩৫ থেকে ৩৭ হাজার মানুষকে হত্যা করা হলেও তাদের কাউকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর মানুষ পিটিয়ে হত্যা করার জন্য লগি-বৈঠা হাতে নিয়ে রাজধানীতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাসিনা। হত্যাকাণ্ডে বামপন্থি দোসররা আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিল। আমাদের সহকর্মীকে হত্যা করে লাশের ওপর নৃত্য করেছে বাপ্পাদিত্য বসু। এমনকি তারা আমাদের ভাইদের লাশগুলো চুরি করতে চেয়েছিল। প্রতিরোধের মুখে তারা ব্যর্থ হয়েছিল। কী নিদারুণ বিভীষিকাময় মুহূর্ত ছিল! আমরা এসব নিকৃষ্ট খুনির ন্যায়বিচার চাই।

তিনি বলেন, আমাদের আফসোস। তখন চার দলীয় সরকার ছিল। মাগরিবের আগ পর্যন্ত এ তাণ্ডব চললেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে হাত ধরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করল না? এসব হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মামলা হলো। কিন্তু এক-এগারোর সরকারের হাত ধরে আওয়ামী লীগ পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় এসে মামলার নথিপত্রসহ সব আলামত গায়েব করে ফেলে। মামলা প্রত্যাহার করে নেয়।

আওয়ামী লীগকে সর্তক করে জামায়াত আমির বলেন, ৪০ বছর পর জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হত্যা করার ফল ভোগ করতে হবে। আমরা এ বিচারের শেষ দেখে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।

বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, কোনো ফ্যাসিবাদের হাতে বাংলাদেশকে ইজারা দেব না। বাংলাদেশকে পাহারা দিয়ে রাখব। কোনো অন্যায়ের কাছে আমরা মাথা নত করব না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা ভালো মানুষ, তারা নিজেদের পছন্দের ঠিকানা খুঁজে নেবেন। তবে ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশে ফিরে আসবে—এমন কল্পনা বা স্বপ্ন কেউ যেন না দেখেন। জুজুর ভয় আমাদের দেখাবেন না।

ফ্যাসিবাদের পরিবর্তনের জন্য জনগণ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে বলে মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংবিধান ঘষামাজার জন্য রায় দেয়নি। আফসোস, সরকার সেটি ভুলে গেছে। ভুলে গিয়ে লাভ হবে না। ফিরে আসুন। সংবিধান সংস্কারে গণপরিষদ গঠন করে সংবিধান সংস্কার করুন।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্যে দেন জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আবদুল হালিম, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির জনাব মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, শহীদ হাফেজ গোলাম কিবরিয়া শিপনের বাবা মো. তাজুল ইসলাম, শহীদ মুজাহিদুল ইসলামের মামা মিজান আহম্মেদ, শহীদ সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুমের মাতা শামছুন্নাহার রুমি, ডাকসুর সাবেক ভিপি আবু সাদিক কায়েম প্রমুখ।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন